শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মুখোমুখি দুই পরিবার

শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মুখোমুখি দুই পরিবার

অনলাইন ডেস্কঃ  শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এখন মুখোমুখি লড়াই দুই পরিবারের। সাজিত প্রেমদাসা ও গোতাবায়া রাজপক্ষের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেবেন দ্বীপরাষ্ট্রের ১.৬ কোটি ভোটার। রাষ্ট্রপতি পদে অন্য অনেক প্রার্থী থাকলেও প্রধান দুই প্রার্থীই শ্রীলঙ্কার দুই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য।

ক্রিকেট যারা দেখেন তারা শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের কথা জানেন। শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রণসিংহে প্রেমদাসার নামেই এই স্টেডিয়াম। তার ছেলে সাজিত প্রেমদাসা এবার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী। তার বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন গোতাবায়া রাজপক্ষ, তার দলের নাম শ্রীলঙ্কা পুড়ুজনা পেরামুনা পার্টি। তামিল টাইগারের নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে যখন হত্যা করা হয়, তখন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দা রাজপক্ষ। গোতাবায়া শুধু তার ভাই নন, তামিল টাইগার দমনের সময় তিনি ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব। তাই সেই সময় উত্তর শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাতে অভিযুক্ত ছিলেন গোতাবায়াও।

বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, রাজপক্ষের নির্বাচনী ইশতেহারে জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ভারতের সঙ্গে আরো নিবিড় ভাবে কাজ করবেন। মাহিন্দা রাজপক্ষের নির্বাচনী প্রচারে টাকা ঢেলেছিল চীন, তাই তাঁর সময়ে চীন ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি এসেছিল। নির্বাচনে চীন টাকা খরচ করলেও তা নিয়ে ভারতের চিন্তার কোনো কারণ নেই।

ভারতীয গণমাধ্যমের দাবি, প্রেমদাসাকে ‘পছন্দ করেন’ তামিলরা। তার মনোভাবও ‘নমনীয়’। ইতোমধ্যেই শ্রীলঙ্কার তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স সমর্থন জানিয়ে দিয়েছে প্রেমদাসাকে। তার প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করেন তামিলনাড়ুর লোকজনও।

অবশ্য ভারতের গণমাধ্যম যাই বলুক না কেন, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান এই দুই প্রার্থীর মধ্যে এগিয়ে আছেন রাজপক্ষই। ভোটের প্রচারে দেশের উন্নয়নের উপরে জোর দিয়েছেন প্রেমদাসা। অপরদিকে রাজপক্ষের প্রচারের কেন্দ্রে ছিল জাতীয় নিরাপত্তা। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হেটেলে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তারপর সেখানে মুসলমান-বিরোধী দাঙ্গা বেধেছিল। এই অবস্থায় দেশের উত্তরপশ্চিম অংশের শ্রীলঙ্কানদের সমর্থন রাজাপক্ষের দিকেই রয়েছে। তবে তামিলদের দমন করার জন্য দেশের সংখ্যালঘু তামিলরা তাকে একেবারেই চান না।

নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য চীনকে লিজ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভারতের ধারণা, এই বন্দরের জন্য শ্রীলঙ্কা যে ঋণ নিয়েছিল চীনের থেকে, তা পরিশোধ করতে না পারার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তবে শ্রীলঙ্কার মানুষ এমনটা মনে করে কিনা – সেটাও একটা প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, এক দশক ধরে শ্রীলঙ্কা ছিল রাজপক্ষের শাসনাধীন। ২০১৪ সালে তিনি চলে যাওয়ার পরেও একই ভাবে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার ধরে রেখেছে চীন।

pbnews/nikhanmamun

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




পর্তুগাল বাংলানিউজ

প্রধান উপদেষ্টা: কাজল আহমেদ

পরিচালক: মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম

প্রকাশক: মোঃ এনামুল হক

যোগাযোগ করুন

E-mail : portugalbanglanews24@gmail.com

Portugalbanglanews.com 2019
Developed by RKR BD