মেয়ের আত্মহত্যার কারণ তুলে ধরেন বাবা

মেয়ের আত্মহত্যার কারণ তুলে ধরেন বাবা

অনলাইন ডেস্ক: 

স্কুলছাত্রী ঐশী আত্মহত্যা করেছেন গত ১১ নভেম্বর। মেয়ের মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর গত ২৬ ‍ডিসেম্বর ফেসুবকে এক হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দেন বাবা আহমেদ রাশিদ জয়। সেই স্ট্যাটাসে তিনি মেয়ের আত্মহত্যার কারণ তুলে ধরেন। মেয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে আবারও এক হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঐশীর বাবা। পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘ঐশীর সমাধিতে আমি প্রতিদিন আসি। গতকালই (৩১ ‍ডিসেম্বর, ২০১৯) ভেবে রেখেছিলাম আজ (১ জানুয়ারি, ২০২০) খুব সকাল সকাল এসে ঐশীকেই প্রথম বলবো, ‘Happy New Year Ma.’

কবরস্থানে ঢোকা মাত্রই ভেঙে পড়লাম। ২০১৯ থেকে ২০২০, মনে হল ঐশী আরো দূরে চলে গেল। কান্নাভেজা কয়েকটি ফুল আর অনেক দোয়া দিয়ে ওকে উইশ করলাম। বুকের ভিতর কেমন যেন করছিল। খুব ইচ্ছে করছিল ঐশীকে জড়িয়ে ধরে বলি, Happy New Year Ma. সেই সুযোগ আমার নেই, আল্লাহ নিয়ে গেছেন ওকে।

২০১৯ এর ১লা জানুয়ারিতেও ঐশী, দ্রাবিড় আর ওদের মা’কে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন শুরু করেছিলাম। কখনো কল্পনাও করিনি ২০২০ এর একই দিনে ঐশীকে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে হবে।

জীবনে আসলে কোন কিছুই granted বা given না। এই সেদিনও আমার সদা হাস্যোজ্জল ছোট ভাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের মিন্টু সকাল ৭টার দিকে তার স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে কি সুখেই না গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় মিন্টু তার দুই মেয়েকে নিয়ে চলে গেল না ফেরার দেশে। বেঁচে রইল তার অভাগা স্ত্রী আর ছোট ছেলে। কারো জীবনেই কোন কিছু ডেফিনিট না, গ্রান্টেড না। এটাই সত্য।

আমার আর ঐশীর মা’র আপাতত আর কোন নতুন বছর হ্যাপি অনুভূতি নিয়ে শুরু হবে না। প্রতিটি নতুন বছরেই মনে হবে ঐশী আরো দূরে চলে যাচ্ছে। অনেক দূরে। কিন্তু হয়ত বছর কুড়ি পর থেকে নতুন বছরগুলো আমার কাছে হ্যাপি মনে হতে লাগবে। তখন মনে হবে এবার আমিই আস্তে আস্তে ঐশীর কাছে এগিয়ে যাচ্ছি। এভাবে একদিন চলে যাবো, দেখবো ঐশী আমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই চিৎকার দিয়ে বলবে, “বাবা তুমি আসছো?” বলেই ও দৌঁড়ে ছুটে আসবে আমার দিকে। আমি সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম।

আর আমাদের ছেলে দ্রাবিড় স্বপ্ন দেখছে, “When bubu will be back then she will tell us how does the sky looks like.” – মেসেজ লিখছে WhatsApp এ। দেখুক না যে যার মত স্বপ্ন।

এরমধ্যেও দ্রাবিড়ের দিকে তাকিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা। ঘুম থেকে উঠলেই দ্রাবিড়কে জড়িয়ে ধরে বলব, ‘Happy New Year Baba. May Allah bless you Drabeer.’

অনেক ইচ্ছে থাকতেও আজ ঐশীকে জড়িয়ে ধরতে পারলাম না। আপনাদের উপর আল্লাহর রহমত আছে। ধরুন না জড়িয়ে ছেলে মেয়েদের। জোরে চেপে ধরুন আর বলুন, Happy New Year! আর যাদের শুধু বাবা মা আছে, জড়িয়ে ধরো তাদের। বলো, Happy New Year! দাবি করলাম আর কি।

আর আমাদের ঐশীর জন্য অনেক অনেক দোয়া।

এর আগে, ২৬ ‍ডিসেম্বর যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ঐশীর বাবা আহমেদ রাশিদ জয়

‘আমাদের মেয়ে ঐশী আল্লাহর কাছে চলে যায় ১১ নভেম্বর। প্রথম কয়েক দিন কোনো হুঁশ ছিল না। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না মেয়েটি কেন এভাবে চলে গেল? ওর স্কুলের ভিপি আমাকে লিখেছে, ‘‘I cannot tell you how shocked and saddened I am, in fact the whole school is, on hearing of the very tragic demise of the lovely girl, who was so friendly and full of life.’’ কি ভুল করলাম আমরা? মেয়েকে কি ঠিকমত আদর করি নাই? কোনো কষ্ট দিয়েছি?

স্কুলে কেউ খুব কষ্ট দিয়েছে? পরীক্ষার চাপ? সাইকিয়াট্রিস্ট ট্রিটমেন্ট চলছিল, ডিপ্রেশনের হাইডোজ ওষুধ আর ১২টা কাউন্সেলিং সেশন চলেছে, তারপরেও আত্মহত্যা করল! ওর সাইকিয়াট্রিস্টও ওইদিন আমার এক কলিগকে ফোনে বলেছে, ‘বুঝলাম না, অ্যান্টি সুইসাইডাল ওষুধ খাচ্ছিল তারপরেও এটা করলো!’ আমরা কিছুই মিলাতে পারছিলাম না।

ঐশী চলে যাওয়ার পর দিন থেকে আমাদের হারেস মামা বারবার বলছিল, ‘‘অ্যান্টি ডিপ্রেশন মেডিসিন তো সুইসাইডাল টেনডেন্সি বাড়ায়, বিশেষ করে Prozac। তোদের ডাক্তার কিছু বলে নাই?” পরে Prozac নিয়ে কিছুটা পড়লাম, দেশে-বিদেশে অনেক ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললাম, ওষুধের রেগুলেশন আর লিফলেট পড়লাম। ঐশীর সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গেও আলাপ করলাম। তারপর ব্যাপারটা যখন বুঝলাম, ততক্ষণে পৃথিবীর কঠিনতম ভার আর কষ্ট আমাদের জেঁকে বসেছে।

আমি বিষয়টি এখানে শেয়ার করছি। কারণ, আমি চাই না আর কোনো বাবা-মা’র কপালে সারা জীবনের দুর্বিসহ কষ্ট আসুক। সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। আর কেউ যেন ভুল না করেন। যে ভুলের মূল্য স্রেফ কয়েকটা জীবনের মূল্যের সমান। আমার জীবন দিয়েও এই ভুল শুধরাতে পারব না।

আগস্ট মাসের ২০ তারিখের দিকে ঐশী ওর মাকে বলছিল, মা আমি পড়তে চাচ্ছি কিন্তু কিছুতেই মন লাগাতে পারছি না। যা পড়ি ভুলে যাচ্ছি। ঐশী কেঁদেছিল সেদিন। ওর মা আমার সঙ্গে আলাপ করে সাইকিয়াট্রিস্ট কাউন্সেলিং নিয়ে যাবে কিনা। আমি বলি নিয়ে যাও।

২৪ আগস্ট ঐশীকে আমাদের বাবার বয়সী এক সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে নেয়া হলো। বললাম সব। সেই সাইকিয়াট্রিস্ট এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট, অল্প বয়সী এক মেয়ে ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে ঐশীর ব্যাপারে লিখলেন, “Procrastination, not focusing on anything, attention down, Memory problem.”

উনারা ঐশীকে প্রথম দিন থেকেই Prozac-20mg (anti depression) দিনে ২টা করে, Cavinton-(brain booster) ৩টা করে, Mirtaz (ঘুমের) ১টা করে ওষুধ দেয়। পরে Ritalin (Mood enhancer) দেয়।

এগুলো চলে সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ পর্যন্ত। সঙ্গে চলে উনাদের কাছে তিন দফা কাউন্সেলিং। আমাদের ১৭ বছরের ঐশী, যে জীবনেও হাত বা তার আঙুল কাটে নাই, সেই মেয়ে সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখে একরকম হাসতে হাসতে প্রথম সুইসাইডের চেষ্টা করে অনেকগুলো স্লিপিং পিল খেয়ে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপোলো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গিয়ে ওকে বাঁচানো হয়, আর ওর সাইকিয়াট্রিস্টকে ফোনে জানানো হয়। তারা বললেন, সুস্থ হলে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন।

সেপ্টেম্বরে ১৬ তারিখে ঐশীকে আবার নিয়ে গেলাম। সাইকিয়াট্রিস্ট সব ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিলেন। Prozac করা হল ৩টা (৬০ মি.গ্রা.), যোগ করলেন Luraprex 40 mg ২টা (bipolar disorder and schizophrenia), সঙ্গে Cavinton ৬টা, Mirtaz ১টা, ঈন্ডেভার ৩টা আর Ritalin-২টা।

ঐশীর মা প্রায়ই টেলিফোনে ওই মেয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তারকে বলত, ‘‘ওকে এখনও ৩টা করে প্রোজ্যাক দিচ্ছেন, ওরতো ডিপ্রেশন লাগে না। ‘জবাব দিল, ‘‘না আছে। আমরা চেহারা দেখে বুঝতে পারি।’’

এভাবে আড়াই মাস মোট ১২ দফা কাউন্সেলিং আর এই সমস্ত হাই ডোজের ওষুধ চলার পর, নভেম্বরের ১১ তারিখে আমার ‘lovely girl, friendly and full of life’ ঐশী মা স্কুল থেকে ফিরে এসে নিজেই আল্লাহ কাছে চলে যায়। যাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে আমাকে WhatsApp করে, “can you bring cherry from unimart today? Or tomorrow.”

কিছুদিন পর থেকে Prozac নিয়ে পড়া শুরু করলাম। আমেরিকার FDA, Prozac-এর ব্যাপারে WARNING: SUICIDALITY AND ANTIDEPRESSANT DRUGS: Increased risk of suicidal thinking and behavior in children, adolescents, and young adults taking antidepressants। Anyone considering the use of PROZAC or any other antidepressant in a child, adolescent, or young adult must balance this risk with the clinical need.

এটাকে ব্ল্যাক বক্স WARNING বলা হয়। এ ছাড়াও Luraprex ওষুধের লিফলেটে বলা আছে, Precautions: It can cause increase suicidal thoughts and behaviors in adolescents and young adults.

অর্থাৎ সুইসাইড warning লাগানো দুইটা ওষুধ Prozac (60mg) আর Luraprex (80 mg) হাই ডোজ চলেছে দুই মাসের ওপরে। উনারা আমাদের এই সমস্ত ওয়ার্নিং নিয়ে কিছুই বলেননি।

ঐশী চলে যাওয়ার কয়েক দিন পরে পরিবারের কয়েকজন গেলাম সেই সাইকিয়াট্রিস্ট আর তার সহকারী নারী ডাক্তারের কাছে। কথোপকথন ছিল এরকম (সংক্ষিপ্ত)-

স্যার, ঐশীকে আমরা এখানে নিয়ে আসলাম ও (ঐশী) পড়তে পারছিল না। আপনি ওকে ANTIDEPRESSANT DRUGS দিলেন কেন?

-আসলে ওর যে এটেনশন কম, ফোকাস কম, এগুলাই ডিপ্রেশনের লক্ষণ।

ঠিক আছে স্যার কিন্তু প্রোজ্যাক যে দিলেন স্যার, সেটা আগস্ট মাস থেকে খাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে ও প্রথম সুইসাইড এটেম্পট করলো, আর প্রোজ্যাকের ব্যাপারেতো ব্ল্যাক বক্স ওয়ার্নিং দেয়া ছিল যে বাচ্চারা এই ওষুধ খেলে তাদের সুইসাইডাল চিন্তা বাড়ায়। এ ব্যাপারে আমাদেরতো কিছুই বলেননি। তারপর ওর প্রথম এটেম্পট। এরপর আপনি দিলেন ডোজ বাড়িয়ে। সাথে লুরাপ্রেক্স ও দিলেন!

-আসলে প্রোজ্যাক খুব ভালো ওষুধ, বেস্ট ANTIDEPRESSANT DRUGS ওয়ার্ল্ডের। ম্যাক্সিমাম পারমিসেবল ডোজ দিয়েছিলাম ৬০ মিগ্রা। কিন্তু পারলাম না। ৪১ বছরের মধ্যে আমার প্রথম রোগী এভাবে চলে গেল। Extremely sorry, আমি আসলে এই ব্ল্যাক বক্স ওয়ার্নিং-এর ব্যাপারে জানতাম না!

আর আপনি যে বলেছিলেন, ঐশীর এন্টি সুইসাইডাল ওষুধ চলছিল সেটা কোনটা?

-প্রোজ্যাকই তো এন্টি সুইসাইডাল। এটা সবাই জানে।

মানে? যেটার ব্যাপারে সুইসাইডাল ওয়ার্নিং দেওয়া আছে সেটা এন্টি সুইসাইডাল?

উনার কোনো জবাব নেই। ডাক্তার সাহেব এক পর্যায়ে আমাদের বোঝানের চেষ্টা করেন যে ডিপ্রেশনে থেকেই মানুষ সুইসাইড করে। যদি তাই হয়, তাহলেতো আড়াই মাস ধরে পৃথিবীর বেস্ট এন্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের ম্যাক্সিমাম ডোজ চলার পর ঐশীর তো খুব ভালো মেজাজে থাকার কথা।

এরপর আসলে আর কোনো কথা থাকে না। কিছুক্ষণ পরে আমরা কাঁদতে কাঁদতে ডাক্তারের ওখান থেকে চলে আসলাম। আসার সময় চিৎকার করে বললাম, কিছুই পড়েন না, কোনো খোঁজখবর রাখেন না। পারবেন আমার মেয়েকে ফেরত দিতে?

দুই দিন পরে আমি গুলশানে ওষুধের দোকানে গিয়ে প্রোজ্যাকের লিফলেট নিয়ে আসলাম দেখার জন্য, সেখানে আসলে কী লেখা আছে। এগুলো লেখা-

Prozac is not for use In children and adolescents under 18.

WARNING & PRECAUTIONS: Thoughts of suicide and worsening of your depression or anxiety disorder. Patients under 18 have an increased risk of side effects such as suicide attempt, suicidal thoughts and hostility (predominantly aggression, oppositional behaviour and anger) when they take this class of medicines. Information from clinical trials has shown an increased risk of suicidal behaviour in adults aged less than 25 years with psychiatric conditions who were treated with an antidepressant.

Use in children and adolescents aged 8 to 18 years with depression:

Treatment should be started and be supervised by a specialist. The starting dose is 10 mg/day. After 1 to 2 weeks, your doctor may increase the dose to 20 mg/day. The dose should be increased carefully to ensure that you receive the lowest effective dose.

ঐশীর প্রোজ্যাক-এর ডোজ শুরু করে প্রথম দিন থেকেই তাও আবার ৪০ মি.গ্রা। পরে বাড়িয়ে করে ৬০ মি.গ্রা। কোথায় পেলেন ডাক্তার সাহেব বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ম্যাক্সিমাম পারমিসেবল ডোজ ৬০ মি.গ্রা? ওষুধ কোম্পানি বলছে সর্বোচ্চ ২০ মি.গ্রা।

অর্থাৎ ডাক্তার সাহেব আর তার অ্যাসিস্ট্যান্ট যেই ওষুধ প্রতিনিয়ত শত শত রোগীদের দেন তার লিফলেট পড়েন না? এটাকি সম্ভব? আমার স্রেফ মনে হল হাতুড়ে দুই ডাক্তার শিক্ষিতের বেশে ঢাকায় বসে চিকিৎসা দিচ্ছে আর কারিকারি হারাম টাকা কামাচ্ছে।

আর আমিও আমার মেয়ে চলে যাওয়ার পর সব পড়ে ফেললাম! যখন ওষধ চলছিল কিছুই পড়ি নাই। শুধু ডাক্তারের ওপর বিশ্বাস করেছিলাম। আমার এই ভুলের এত চড়া মূল্য দিতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি।

পরে আমরা এই প্রেসক্রিপশন দেশে বিদেশে অনেক ডাক্তারকে দেখিয়েছি। বিদেশে সাইকিয়াট্রিস্ককে দেখিয়েছি। তাদের অনেকেই বলেছেন এটা আসলে medicine induced suicide. কেউ অবাক হয়েছেন বাচ্চাকে কীভাবে প্রোজ্যাক দেয়! কেউ ডোজ নিয়ে বলেছেন-দিনে ৩টা করে প্রোজ্যাক কীভাবে দিল? কোরিয়ান এক ডাক্তার আমার বন্ধুকে বলেছে, একটা ছোট বাচ্চাকে এক বয়স্ক বদ্ধ পাগলের ওষধ দিয়েছে! লন্ডন থেকে এক ডাক্তার বলেছে, এটা জাস্ট পলি মেডিসিন ম্যাল্প্র্যাক্টিস।

মেয়েটা আড়াই মাস ধরে বয়স্ক বদ্ধ পাগলের হাই ডোজের ওষুধ খেয়ে না জানি কতটা কষ্ট পেয়েছে। কিছু বলেনিও তার বাবা মাকে। এভাবে মেয়েটি চলে গেল না ফেরার দেশে। সন্তানহারা আমরা এখন শুধু দোয়া চাই ওর জন্য, আর চাই যেন আর কোনো বাচ্চার ঐশীর মত অবস্থা না হয়। এতেই মনে হয় ঐশীর আত্মা খুশি হবে।

আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, কোনো বাচ্চাকে ANTIDEPRESSANT DRUGS শুরু করার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করবেন, এই ওষুধ কেন দিচ্ছেন? এটা না খেলে কী হবে? খেলে কি সাইড এফেক্ট হবে? কতদিন খাবে? আর অবশ্যই অবশ্যই ওষধের লিফলেট পড়বেন। এই ভুল আর কেউ করবেন না প্লিজ। ওষুধের লিফলেট পড়তে কিন্তু ২-৩ মিনিটের বেশি লাগে না। আসলে যেকোনো ওষুধেরই লিফলেট পড়বেন।

আমি প্রতিদিন সকালে ঐশীর কবরে যাই। ওর জন্য দোয়া করি মন থেকে। আমার খুব ভারি কান্নায় আল্লাহ কাছে বিচার চাই। আর ঐশীকেও বলি, তোর অনেক স্বপ্ন ছিল মা। বিদেশে পড়তে যাবি। ডে-কেয়ার সেন্টার দিবি। তোর বাবাকে ক্ষমা করে দিস মা, একজন ডাক্তারকে বেশি বিশ্বাস করেছিল। বাবা একদম বুঝে নাইরে মা। একদিন আবার দেখা হবে আমাদের চারজনের। ততদিন ভালো থাকিস মা।

ঐশী আত্মহত্যা করেনি।’

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

pbnews/n.k

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




পর্তুগাল বাংলানিউজ

প্রধান উপদেষ্টা: কাজল আহমেদ

পরিচালক: মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম

প্রকাশক: মোঃ এনামুল হক

যোগাযোগ করুন

E-mail : portugalbanglanews24@gmail.com

Portugalbanglanews.com 2019
Developed by RKR BD