পর্তুগালের প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অংশগ্রহণ

মোঃ এনামুল হকমোঃ এনামুল হক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩৪ AM, ০৬ অক্টোবর ২০২৩
পর্তুগালের প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অংশগ্রহণ

পর্তুগালে ১১৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ১৯১০ সালের এই দিনে (৫ অক্টোবর) পর্তুগালের সর্বশেষ রাজা মানুয়েল দ্বিতীয় সাধারণ জনগণের সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করে পর্তুগাল ছেড়ে দেশান্তরী হন। এরপর থেকে এই দিনটাকে ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করা হয়

প্রজাতন্ত্রের দিবসে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানী লিসবনের প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গগণ।

অনুষ্ঠানে পর্তুগিজ রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দি সজা জাতীয় অর্থনীতি, রাজনীতিসহ আঞ্চলিক ইউরোপিয়ান রাজনীতি এবং বিশ্ব রাজনীতির দিকেও ইঙ্গিত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা ১১৩ বছর আগে কোথায় ছিলাম এবং এখন কোথায় আছি। এর মধ্যে আমরা যেসব শপথ করেছিলাম তার প্রতিফলন কি?

তিনি একই সাথে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়টিও তুলে ধরেন।

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে পর্তুগালের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রানা তসলিম উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিকে উদযাপন করার জন্য দলের নৈশ ভোজে তরুণ এবং প্রবীণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এই দেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের কমিউনিটি তথা আমাদের দেশকে ব্র্যান্ডিং ও প্রমোট করতে পারি। সেই সঙ্গে উভয় দেশের মধ্যে তৈরি করতে পারি বন্ধুত্ব, হৃদ্যতা, সহমর্মিতা, ভাতৃত্ববোধ সর্বোপরি সলিডারিটি। আমাদের উভয় দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক সেইইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে রাজা মানুয়েল দ্বিতীয় এর পিতা তৎকালীন পর্তুগালের রাজা, রাজা কার্লোস প্রথম এবং তার বড় ভাই প্রিন্স লুইস ফিলিপ আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।

রাজা কার্লোসের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে ১৯০৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি রাজা নির্বাচিত হন। পূর্ববর্তী রাজা কার্লোস প্রথম জনগণের উন্নয়নের প্রতি তার অনীহা এবং পরিবার কেন্দ্রিক সম্পদ ব্যয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাছাড়া দেশের অর্থনৈতিক সংকটে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজা মানুয়েল দ্বিতীয় ক্ষমতা আগলে রাখার অনেক প্রচেষ্টা চালান কিন্তু জনরোষের কারণে তা ব্যর্থ হয়। তার পদত্যাগের মাধ্যমে পর্তুগালে রাজতন্ত্রের অবসান হয়।

এছাড়াও এই নৈশি ভোজে ভারত, পাকিস্তান নেপাল, আফ্রিকা ও ব্রাজেলসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :