নিজেকে একজন গর্বিত বাঙ্গালী মনে করি। রানা তসলিম উদ্দিন

নিজেকে একজন গর্বিত বাঙ্গালী মনে করি। রানা তসলিম উদ্দিন

রানা তসলিম উদ্দিন: দুনিয়ার যে প্রান্তেই যাই না কেন শুনতে পাই বাঙ্গালী খারাপ! এই বাঙ্গালীরাই বাংগালীলিদের খারাপ বলে। অথচ পৃথিবীর সব জায়গাতেই আমাদের বাঙ্গালীদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। অন্য দেশের কথা বাদ দিলাম। আমাদের পর্তুগালে বাঙ্গালীদের অনেক অনেক সুনাম রয়েছে। যেমন আমরা কর্মঠ, আমরা সৎ, আমাদের কোন জটিল ক্রাইম রিপোর্ট নেই, আমরা স্বাবলম্বী, আমরা সরকারী বেনিফিট না নিয়ে কাজ করে খাই, আরও অন্যান্য।

বাঙ্গালীরা যে সাহসী জাতি, ১৭৫৭ সালের পলাশী প্রান্তরে পরাজয়ের পর থেকেই তা আমরা অনুধাবন করতে পারি। সিপাহী বিদ্রোহ সহ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতাজী সুবাস বোস সহ কত বাঙ্গালী সাহসিকতার সাথে দেশ প্রেমে জীবন দিয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা।

১৯৪৭ এর দেশ বিভাজনের পর থেকে বাঙ্গালী হয়ে উঠে সাহসিকতার স্ফুলিংঙ্গ। যার পুরস্কার স্বরুপ আমাদের আজকের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পরেও এ বাঙ্গালীকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি, ১৯৯০ এর গন অভ্যুত্থানে আবারো বাঙ্গালী সাহসিকতার প্রমান দিয়ে স্বৈর শাসকের পতন ঘটিয়ে ফিরিয়ে এনেছে গনতন্ত্র।

একথাগুলো আজ বলতাম না। আজ এক পর্তুগিজ বন্ধুর সাথে কথা প্রসঙ্গে বললাম, আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি থেকে তোমাদের ভাষা সংস্কৃতি প্রায় ১০০ পিছিয়ে আছে। আমাদের মেধা তোমাদের মেধা থেকে অনেক বেশী উন্নত। আরও অন্যান্য বিষয়েও আমাদের আলাপ হয়। সে জানতে চাইলো, তৃতীয় বিশ্বের একটা গরীব দেশে এটা কেমন করে সম্ভব?

আমি তাঁকে বললাম, অন্যসব বাদ দিলাম! শুধু এইবছরের নোবেল পুরস্কার সহ বাঙ্গালীরা মোট চারটি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। ১৯১৩ সালে আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। অথচ তোমরা ১৯৯৮ সালে, আমাদের ৮৫ বছর পরে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছ। ভেবে দেখ, সাহিত্যে কারা এগিয়ে আছে? ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন বাঙ্গালী ডঃ অমর্ত্য সেন। ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল পিস প্রাইজ কমিটি ঘোষণা করে সেই বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের ডঃ ইউনুস। আর এইবার ২০১৯ যিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনি আর কেউ নন আমাদেরই বাঙ্গালী ডঃ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাবাশ বাঙ্গালী!

আমার বন্ধু মহোদয়ের চোখ কপালে উঠে গেলো, এবং বললো, আমার জানা ছিলোনা তোমাদের বাংলাদেশের এতো এতো বিস্ময়। সত্যি আমি বিমহিত, আমি বাংলাদেশে বেড়াতে যাবো। আন্তরিকতার সাথে আমিও তাঁকে আমার দেশে যাওয়ার আমন্ত্রন জানালাম। নিজেকে একজন গর্বিত বাঙ্গালী মনে হলো।

পরিশেষে, যে কথাটি বলতে চাই তা হোল আমাদের প্রবাসী ভাইদের বলবো, আমাদের গর্ব করার অনেক কিছুই আছে। আপনারা কখনো নিজেকে অসহায় ভাব্বেন না। মনে রাখবেন, আমরা হচ্ছি একেকজন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, একেকজন বাংলাদেশের সূর্য সন্তান, একেকজন গর্বিত বাঙ্গালী। আপনার আমার আচরন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভাষায় আমরা একেকজন বীরের জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলবো। আমরা এখানে হাত পাততে আসিনি, আমরা আমাদের কাজের বিনিময়ে এদেশের অর্থনীতিতে সাহায্য করছি। খেয়াল রাখতে হবে, আমরা যাতে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




পর্তুগাল বাংলানিউজ

প্রধান উপদেষ্টা: কাজল আহমেদ

পরিচালক: মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম

প্রকাশক: মোঃ এনামুল হক

যোগাযোগ করুন

E-mail : portugalbanglanews24@gmail.com

Portugalbanglanews.com 2019
Developed by RKR BD