তাহারাত ও নাজাফাত বা পবিত্রতা ও পরিছন্নতা

তাহারাত ও নাজাফাত বা পবিত্রতা ও পরিছন্নতা

পর্তুগাল বাংলানিউজ ডেস্ক:  ইসলামী জীবন বিধানে মানব জীবনের সকল দিকের উলে­খ পাওয়া যায় এজন্য যে, ইসলাম মানবতা ও সভ্যতার ধর্ম। স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন, মল-মূত্র ত্যাগের শিষ্টাচার, ভদ্র ব্যবহার, সার্বিক পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি সকল বিষয়ের দিক নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। যাতে একজন মানুষ সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারে। কেননা ইসলামের শিক্ষা হলো সভ্যতা, নৈতিকতা ও মানবতাবোধ। সামগ্রিকভাবে দেহ, পোশাক, বাড়িঘর সবকিছু পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখতে বিভিন্নভাবে নির্দেশ দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)। দেহে বা পোশাকে অপরিচ্ছন্ন কাউকে দেখলে আপত্তি করতেন। এক হাদীসে উলে­খ রয়েছে,
عن ابن المسيب سمع يقول : ” «إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ يُحِبُّ الطِّيبَ ,نَظِيفٌ يُحِبُّ النَّظَافَةَ، َرِيمٌ يُحِبُّ الْكَرَمَ , جَوَّادٌ يُحِبُّ الْجُودَ، فَنَظِّفُوا أراه قال : أَفْنِيَتَكُمْ وَلَا تَشَبَّهُوَا بِالْيَهُودِ وفي رواية تَجْمَعُ الْأَكْبَاءَ فِي دُورِهَا» “( رواه الترمذي ,مشكوة-2/ 516-4487)
“সালিহ ইবন আবূ হাসসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, পবিত্রতা তিনি ভালোবাসেন; তিনি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা তিনি ভালোবাসেন; তিনি দয়ালু, দয়া তিনি ভালোবাসেন; তিনি দানশীল, দানশীলতা তিনি ভালোবাসেন; সুতরাং তোমরা ঘর-বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে, ইয়াহুদীদের মত হয়ো না।’’ -তিরমিযী; মিশকাত-খ.২, পৃ. ৫১৬, হা ঃ ৪৪৮৭
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের সালাতের সময় বিলাল (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক যে আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে আমি আমার সামনে তোমর পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল (রাঃ) বললেন, দিন রাতের যে কোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি, যে পরিমাণ সালাত আদায় করা আমার তাকদীরে লেখা ছিল। আমার কাছে এর চাইতে (অধিক) আশাব্যঞ্জক হয়, এম কোন বিশেষ আমল আমি করিনি। বুখারী শরীফ হাদিস -১০৮৩
পবিত্রতার সংজ্ঞা
আরবী طهارة (ত্বহারাত) শব্দের শাব্দিক অর্থ পবিত্রতা, নিষ্কলুষতা, ময়লা ও (আবর্জনা) অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় প্রকাশ্য অপবিত্রতা থেকে দেহ, পোষাক, সালাতের স্থান এবং পাপের কালিমা থেকে মন (অন্তর)-কে পবিত্র রাখার নাম ত্বহারাত বা পবিত্রতা।
পরিচ্ছন্নতার সংজ্ঞা
আরবী نظافة (নাযাফাত) অর্থ বিশুদ্ধতা, পরিচ্ছন্নতা। পরিচ্ছন্নতা হলো যা আসলে নাপাক নয়, যেমন বাড়তি নখ, বগল ও গুপ্তস্থানের চুল, শে¬ষা, থুথু, আবর্জনা ও কাপড়ের ময়লা ইত্যাদি থেকে শরীর, পোষাক, ঘর-বাড়ী ও আসবাবপত্র পরিচ্ছন্ন রাখা।
পবিত্রতার প্রকারভেদঃ পবিত্রতা ২ প্রকার।
১। طهارة ظاهري বা বাহ্যিক পবিত্রতা। ২। طهارة باطني বা আভ্যন্তরীন পবিত্রতা।
বাহ্যিক পবিত্রতা আবার তিন প্রকার।
১। শরীর ও পরিধেয় বস্ত্রকে বাইরের ময়লা, মলিনতা ও অপবিত্র বস্তু থেকে পবিত্র রাখা।
২। মল-মূত্র ত্যাগ, বায়ু নিঃসরণ, শুক্রপাত ইত্যাদি দ্বারা শরীর অপবিত্র হলে অযু-গোসলের মাধ্যমে পবিত্র করা।
৩। চুল- নখ, ময়লা ইত্যাদি যে সমস্ত জিনিস শরীরে উৎপন্ন ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, তা দূর করে শরীর পবিত্র রাখা।
আভ্যন্তরীন পবিত্রতা আবার তিন প্রকার।
১। হৃদয় মনকে আল­াহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য সব ধরণের চিন্তা কল্পনা থেকে দূরে রাখা।
২। কু-অভ্যাস, কুচিন্তা, কুকল্পনা, ও মন্দ স্বভাব হৃদয় থেকে দূর করা। মেযন হিংসা, অহমিকা, রিয়া, লালসা, শত্র“তা, আতœগরিমা ইত্যাদি। তার পরিবর্তে বিনয়, নম্রতা, ধৈর্য্য, পাপভীতি, খোদাপ্রেম ইত্যাদি সুপ্রবৃত্তি দিয়ে অন্তরকে অলংকৃত করা।
৩। দৃশ্যমান অঙ্গগুলো (যেমন হাত, পা, চোখ, কান, জিহবা ইত্যাদি)-কে সব ধরণের পাপ কাজ থেকে মুক্ত রাখা।
পবিত্রতার স্তর সমূহঃ
প্রথম স্তরঃ
পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রথম স্তর হচ্ছে মল-মূত্র ত্যাগ
এ বিষয়ে ইসলামের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। যেমন
ক। অন্যের দৃষ্টি থেকে সতর আবৃত রাখা
এজন্য সর্বদা চেষ্টা করতে হবে সেনেটারী পায়খানা বা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি ‘পায়খানা’র মধ্যে মলমুত্র ত্যাগ করা। যদি একান্ত বাধ্য হয়ে ফাঁকা স্থানে ইসতিনজা করার প্রয়োজন হলে লোক চক্ষুর আড়ালে বসতে হবে। মলমুত্র পরিত্যাগের সময় নিজ সতর অন্যকে দেখতে দেওয়া কঠিন হারাম ও অভিশাপের কারণ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
من أتى الغائط فليستتر (رواه أبو داود وابن ماجه والدارمي,مشكوة-১/ ৭৬-৩৫২)
“যে ব্যক্তি মলত্যাগের জন্য গমণ করবে, সে যেন নিজেকে আড়াল করে।’’ -আবূ দাঊদ; ইবন মাজাহ; দারেমী; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৭৬, হা ঃ ৩৫২
খ। সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে এরূপ স্থানে মলমুত্র ত্যাগ করা নিষেধ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم :اتَّقُوا اللاَّعِنَيْنِ. قَالُوا وَمَا اللاَّعِنَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ “الَّذِى يَتَخَلَّى فِى طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ ظِلِّهِمْ” (رواه مسلم ,مشكوة-১/ ৭৩-৩৩৯)
“তোমরা তিনটি অভিশাপের স্থান বর্জন করে চলবে। তখন বলা হলো: হে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)! অভিশাপের স্থানগুলো কি? তিনি বলেন, মানুষ ছায়াগ্রহণ করে এরূপ ছায়াময় স্থানে অথবা রাস্তায় অথবা জলাধার বা জলাশয়ের মধ্যে বা পানির ঘাটে মলমুত্র ত্যাাগ করতে বসা।’’ -মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৭৩, হা ঃ ৩৩৯
গ। মলমুত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিছন দেওয়া নিষিদ্ধ
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عن أبي أيوب الأنصاري قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : “إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ ولا تستدبروها وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا” (متفق عليه,مشكوة-১/ ৭২-৩৩৪)
“তোমরা মলত্যাগ বা মুত্রত্যাগের জন্য গমন করলে কিবলা সামনে রাখবে না বা পিছনে রাখবে না।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৭২, হা ঃ ৩৩৪
ঘ। ‘পায়খানা’য় মল-মুত্র ত্যাগ করলে তা ভালভাবে পরিস্কার করা প্রয়োজন
কোনো পাত্রে, ঘটিতে, প্যানের মধ্যে পেশাব জমা থাকলে সেই বাড়িতে ফিরিশতা প্রবেশ করেন না বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
“বাড়ির মধ্যে কোনো পাত্রে যেন পেশাব জমা না থাকে। কারণ যে বাড়িতে কোনো পেশাব জমে আছে সেই বাড়িতে ফিরিশতা প্রবেশ করেন না।’’ -মাজমাউয যাওয়াইদ, খ. ১, পৃ. ২০৪
ঙ। দেহ ও পোশাক পেশাবের ছিটা থেকে পবিত্র রাখা মু’মিনের অন্যতম দায়িত্ব
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ – رضي الله عنه – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – { اِسْتَنْزِهُوا مِنْ اَلْبَوْلِ, فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ اَلْقَبْرِ مِنْهُ } رَوَاهُ اَلدَّارَقُطْنِيّ ,بلوغ المرام-১/২৩)
“কবরের আযাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেশাবের কারণেই হয়। কাজেই তোমরা পেশাব থেকে পবিত্র থাকবে।’’ দারে কুতনি, খ. ১, পৃ. ২৩২; হাঃ নং ৪৬৪
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) দু‘টি কবরের পার্শ¡ দিয়ে গমন করার সময় বলেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحدهمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ – وَفِي رِوَايَةٍ لمُسلم: لَا يستنزه مِنَ الْبَوْلِ – وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثمَّ أَخذ جَرِيدَة رطبَة فَشَقهَا نِصْفَيْنِ ثُمَّ غَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً قَالُوا يَا رَسُول الله لم صنعت هَذَا قَالَ لَعَلَّه يُخَفف عَنْهُمَا مَا لم ييبسا (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ ,مشكوة-১/ ৭৩-৩৩৮)
“একদা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: এ দু’ ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কোন বড় গুনাহের কারণে তাদের শাস্তি হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ! বিষয়টা বড়ই। তাদের একজন চোগলখুরী করে বেড়াত। আর অন্য জন পেশাবের সময় পর্দা করত না (পবিত্র হত না)।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৩৩৮
চ। টিস্যু বা ঢিলা ব্যবহার অধিকতর পবিত্রতা নিশ্চিত করে
মলমুত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহারের পূর্বে ঢিলা-কুলুখ বা টিস্যু ব্যবহার করে আগে ময়লার স্থান পরিস্কার করা প্রয়োজন। এছাড়া পেশাব শেষে উঠে দাঁড়ালেই যাঁতে দু’ বা এক ফোঁটা পেশাব কাপড়ে বা দেহে না পড়ে এজন্য পেশাবের পরে বসা অবস্থাতেই পুরুষের জন্য পুরুষাঙ্গ তিনবার টান দিয়ে এরপর পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলা উচিত। দুর্বল সনদে একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ عِيسَى بْنِ يَزْدَادَ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – { إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلْيَنْثُرْ ذَكَرَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ (رَوَاهُ اِبْنُ مَاجَه-৩২৬ ,بلوغ المرام-১/২৪)
“তোমাদের কেউ পেশাব করলে সে যেন তার পুরুষাঙ্গ তিনবার টান দেয়। এভাবে তিনবার টান দেওয়াই তার জন্য যথেষ্ট বলে গণ্য হবে।’’ -ইবন মাজাহ; বুলুগুল মারাম
ছ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মু’মিনের উচিত
সকল অবস্থায় আল­াহর নিয়া‘মতের স্মরণ করা, দু‘আ করা ও কৃতজ্ঞতা জানানো। ‘পায়খানা’ বা শৌচাগারে প্রবেশের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলতেন,
عن أنس قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا دخل الخلاء يقول : “اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ اَلْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ” ( متفق عليه,مشكوة-১/ ৭২-৩৩৭)
“হে আল্লাহ! আমি অপবিত্র কর্ম বা পুরুষ ও নারী অপবিত্রদের (শয়তানের) থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৭২, হা ঃ ৩৩৭
অন্য হাদীসে আয়েশা (রাঃ) বলেন,
عن عائشة قالت : كان اَلنَّبِيّ – صلى الله عليه وسلم – إِذَا خَرَجَ مِنْ الخلاء قَالَ: “غُفْرَانَكَ”(رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي ,مشكوة-১/ ৭৭-৩৫৯)
“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) যখন শৌচাগার বা মলমুত্র ত্যাগের স্থান থেকে বের হতেন তখন বলতেন, “আপনার ক্ষমা প্রাথনা করছি।’’ -তিরমিযী; ইবন মাজাহ; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৭৭, হা ঃ ৩৫৯
জ। সেন্ডল রাখা –
শৌচাগারে প্রবেশের সময় জুতা, সেন্ডেল বা পাদুকা পায়ে রাখা পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয়।’’ বায়হাকী, খ. ১ পৃ. ৯৬
ঝ। মাথা ঢেকে রাখা মাথা আবৃত রাখাও আদব।
একটি হাদীসে রয়েছে,
عَنْ حَبِيبِ بْنِ صَالِحٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ لَبِسَ حِذَاءَهُ وَغَطَّى رَأْسَهُ.(بيهقي-১/৯৬-৪৬৫)
“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) শৌচাগারে প্রবেশ করতে চাইলে তাঁর জুতা পরিধান করতেন এবং মাথা আবৃত করতেন।’’ বায়হাকী , খ. ১, পৃ. ৯৬
দ্বিতীয় স্তরঃ
২। ওযু ও গোসল
ইসলামে পবিত্রতার ২য় স্তর হচ্ছে ওযূ ও গোসল। কাপড়ে, দেহে বা কোনো স্থানে ময়লা বা নাপাকি লাগলে তা পানির মাধ্যমে ধুয়ে পাক করতে হয়। আর মল-মুত্র ত্যাগ, বায়ূ ত্যাগ, ঘুম বা রক্তপাত ইত্যাদির মাধ্যমে ওযূ নষ্ট হলে ওযূর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। এরূপ পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত আল­াহ তা‘আলা কবুল করেন না। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عن ابن عمر قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ” لاَ تُقْبَلُ صلاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ ، ولا صدقةَ مِنْ غُلُولٍ “(رواه مسلم ,مشكوة-১/ ৬৫-৩০১)
“অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের দান কবুল হয় না এবং ওযূ ছাড়া সালাত কবুল হয় না।’’ন-মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৬৫, হা ঃ ৩০১
ওযূ শুধু সালাতের শর্তই নয়। ওযূ নিজেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদীসে ওযূ, গোসল ও পাক পবিত্র হওয়াকে ঈমানের অর্ধাংশ বলে উলে­খ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,
عن أبي مالك الأشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ” الطُّهُورُ شَطْرُ الإيمانِ” (رواه مسلم ,مشكوة-১/ ৬০-২৮১)
“পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ।’’ -মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৬০, হা ঃ ২৮১
এ ইবাদতের জন্য মহা পুরস্কার ও বিশেষ সাওয়াব রয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عن عثمان رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ” من تَوَضَّأ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ ، خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُج مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ ” ( متفق عليه ,مشكوة-১/ ৬১-২৮৪)
“যে ব্যক্তি ওযূ করবে এবং সুন্দররূপে ওযূ করবে তার পাপ বা অন্যায়গুলো তার দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে, এমনকি তার নখগুলোর নিচে থেকেও বেরিয়ে যাবে।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৬১, হা ঃ ২৮৪
অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
إِذَا تَطَهَّرَ الرَّجُلُ ، ثُمَّ مَرَّ إِلَى الْمَسْجِدِ يَرْعَى الصَّلاَةَ كَتَبَ لَهُ كَاتِبَهُ أَوْ كَاتِبَاهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الْمَسْجِدِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ ، وَالْقَاعِدُ يَرْعَى الصَّلاَةَ كَالْقَانِتِ وَيُكْتَبُ مِنَ الْمُصَلِّينَ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى يَرْجِعَ (البيهقي-২/ ১৫৭- ৫১৭৩)
“যখন কোনো মানুষ পবিত্র হয়ে বা ওযূ করে মসজিদে আগমন করে তখন তার আমল লেখক মসজিদের দিকে তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য দশটি সাওয়াব লিখেন। যে ব্যক্তি মসজিদে বসে সালাতের অপেক্ষা করে তার সালাতে রত থাকার সাওয়াব হয়। বাড়ি থেকে ফেরা পর্যন্ত পুরো সময় তার জন্য সালাত আদায়ের সাওয়াব লেখা হয়।’’ বায়হাকী-খ. ২, পৃ. ১৫৭, হা ঃ ৫১৭৩
পানির পরিমাণ – ওযূর অঙ্গগুলো ভালভাবে ধোয়া। পানির অপচয় করা অথবা তিনবারের বেশি কোনো অঙ্গ ধোয়া আপত্তিকর। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) অল্প পানি দিয়েই পূর্ণরূপে ওযূ করতেন। আনাস ইবন মালিক বলেন,
عن أنس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم” يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ, وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ” (مُتَّفَقٌ عَلَيْه ,مشكوة-১/ ৯৫-৪৩৯)
“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ওযূ করতেন এক মুদ্দ (প্রায় এক লিটার) পানি দিয়ে এবং গোসল করতেন এক সা’ (প্রায় ৪ লিটার) থেকে পাঁচ মুদ্দ (প্রায় ৫ লিটার) পানি দিয়ে।’’ বুখারি; মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৯৫, হা ঃ ৪৩৯
মিসওয়াক ব্যবহার
ইসলামে সব সময় মিসওয়াক ব্যবহার করতে এবং দাঁত ও মুখের অভ্যন্তর পরিস্কার রাখতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ওযূর সময়ে দাত ও মুখ পরিস্কার করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عن عائشة قالت : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : “السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ للرَّبِّ” (رواه الشافعي وأحمد والدارمي والنسائي ورواه البخاري ,مشكوة-১/ ৮২-৩৮১)
“দাঁত পরিস্কার মুখের পবিত্রতা আনয়ন করে এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি আনয়ন করে।’’ -বুখারী; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৮২, হা ঃ ৩৮১
চেষ্টা করতে হবে, নিম বা অনুরূপ গাছের কাঁচা ডালের মিসওয়াক ব্যবহার করা। না হলে টুথ ব্রাশ ও পেস্ট ব্যবহার করতে হবে। মূল ইবাদত হলো মুখ পরিস্কার করা ও দুর্গন্ধ দূর করা।
ওযূর পরে দু‘আ পাঠ
হাদীস শরীফে ওযূর পর দু‘আ পাঠের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عن عمر بن الخطاب – رضي الله عنه – قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ – صلى الله عليه وسلم :”مَا مِنْكُمْ مِنْ أحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلغُ – أَوْ فَيُسْبِغُ – الوُضُوءَ ، ثُمَّ يقول : أشهَدُ أنْ لا إلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، وَأشْهَدُ أنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ؛ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ”(رواه مسلم ,مشكوة-১/ ৬২-২৮৯)
“যদি কেউ পরিপূর্ণরূপে ওযূ করে এবং এরপর বলে: আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল­াহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ ﷺ তাঁর দাস ও প্রেরিত দূত, তাহলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে।” -মুসলিম; মিশকাত, খ. ১, পৃ. ৬২, হা ঃ ২৮৯
তাহিয়্যাতুল ওযূ আদায় করা
প্রত্যেক ওযূর পরে সে ওযূ দ্বারা কিছু নফল সালাত আদায় করা খুবই ভাল।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلَالٍ عِنْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ: ্রيَا بِلَالُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عمل عملته فِي الْإِسْلَام فَإِنِّي سَمِعت دق نعليك بَين يَدي الْجَنَّةِগ্ধ . قَالَ: مَا عَمِلْتُ عَمَلًا أَرْجَى عِنْدِي أَنِّي لم أتطهر طهُورا مِنْ سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلَا نَهَارٍ إِلَّا صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كُتِبَ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ( متفق عليه ,مشكوة-১/ ২৯৫-১৩২২)
“আবূ হুরাইরা  বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একদিন ফজরের সালাতের সময় বলেন, বেলাল, তুমি ইসলাম গ্রহণের পরে তোমার মতে সবচেয়ে বড় নেক আমল কোনটি করেছ, যে আমলের জন্য সবচেয়ে বেশি সাওয়াব তুমি আশা কর; কারণ আমি গত রাতে জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার পাদুকার শব্দ শুনেছি। তখন বেলাল বলেন, “আমি ইসলামে যত কর্ম করেছি সেগুলোর মধ্যে যে কর্মটির ফায়দা ও সাওয়াব বেশি আশা করি তা হলো, আমি দিনে বা রাতে যখনই ওযূ করি তখনই সেই ওযূতে আমাকে আল­াহ তা‘আলা যতটুকু তাওফীক প্রদান করেন তদানুসারে কিছু নফল সালাত আদায় করি।’’ -বুখারী ; মুসলিম; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৬২, হা ঃ ২৮৯
দুখুলুল মসজিদ- হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,
مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ هَذَا الْوُضُوءِ ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ قَالَ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَغْتَرُّوا (بخاري-৫/ ২৩৬৩- ৬০৬৯)
“যে ব্যক্তি আমার ওযূর মতো ওযূ করবে, এরপর মসজিদে গমন করে সেখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করবে, অতঃপর মসজিদে বসবে, তার পূর্ববর্তী পাপ ক্ষমা করা হবে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আরো বলেন, “তবে তোমরা ধোঁকায় পড়ো না।’’ বুখারী-খ. ৫, পৃ. ২৩৬৩, হা ঃ ৬০৬৯
ওযূ অবস্থায় ঘুমানো
ঘুমানোর আগে ওযূ করে ওযূ অবস্থায় ঘুমানো উত্তম। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ওযূ অবস্থায় ঘুমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রطَهِّرُوا هَذِهِ الْأَجْسَادَ طَهَّرَكُمُ اللَّهُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يَبِيتُ طَاهِرًا إِلَّا بَاتَ مَعَهُ فِي شِعَارِهِ مَلَكٌ، لَا يَنْقَلِبُ سَاعَةً مِنَ اللَّيْلِ إِلَّا قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِكَ فَإِنَّهُ بَاتَ طَاهِرًاগ্ধ.( رواه الطبراني في الاوسط , مجمع الزوائد ومنبع الفوائد-১/ ২৮০- ১১৪৬)
“তোমরা এ দেহগুলোকে পবিত্র রাখবে। যদি কেউ ওযূ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে তবে তার সাথে তার বিছানায় একজন ফিরিশতা শুয়ে থাকবেন। রাত্রে যখনই সে নড়াচড়া করবে তখনই ঐ ফিরিশতা আল­াহর কাছে দু‘আ করবে, হে আল­াহ! আপনার বান্দা ওযূ অবস্থায় শুয়েছেন, আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন।’’ -মুজামুল আওসাত ঃ ৫০৮৭
ডান কাতে শুয়া ঃ ডান কাতে শুয়ে বলবে,
عن البَراءِ بن عازِبٍ رضي الله عنهما ، قَالَ : كَانَ رسول الله – صلى الله عليه وسلم – إِذَا أوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَن ، ثُمَّ قَالَ : (( اللَّهُمَّ أسْلَمْتُ نفسي إلَيْكَ ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إلَيْكَ ، وَفَوَّضْتُ أمْرِي إلَيْكَ ، وَألْجَأتُ ظَهْرِي إلَيْك ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إلَيْكَ ، لاَ مَلْجَأ وَلاَ مَنْجا مِنْكَ إِلاَّ إلَيكَ ، آمَنْتُ بكِتَابِكَ الَّذِي أنْزَلْتَ ، وَنَبِيِّكَ الَّذِي أرْسَلْتَ ” ( متفق عليه ,مشكوة-২/ ৩৭-২৩৮৫)
“হে আল­াহ! আমি সমর্পণ করলাম আমাকে আপনার নিকট, আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরালাম, দায়িত্ব অর্পন করলাম আপনাকে আমার যাবতীয় কর্মের, আমার পৃষ্ঠকে আপনার আশ্রয়ে সমর্পিত করলাম, আপনার প্রতি আশা ও ভয়ের সাথে, আপনার নিকট থেকে, আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই ও কোনো মুক্তির স্থান নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনি যে কিতাব নাযিল করেছেন তার উপর এবং আপনি যে নবী ﷺ প্রেরণ করেছেন তার উপর।
এ বাক্যগুলো তোমার শেষ কথা হবে (এর পরে আর কোনো কথাবার্তা বলবে না)। যে ব্যক্তি এ দু‘আ পাঠের পরে সেই রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করবে সেই ব্যক্তি ফিতরাতের উপরে (নিষ্পাপভাবে) মৃত্যু বরণ করবে। আর যদি বেঁচে থাকে তাহলে কল্যাণময় দিবস শুরু করবে।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত-খ. ২, পৃ. ৩৭, হা ঃ ২৩৮৫
পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি পবিত্রতা
ইসলাম ধর্ম দাড়িয়ে আছে পবিত্রতার উপর। ময়লা, অপবিত্র তার স্থান ইসলামে নেই। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, بني الدين علي النظافة “ধর্মের মূল ভিত্তি পরিচ্ছন্নতার উপর স্থাপিত।’’ এজন্য কোন লোক ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে প্রথমে তাকে অযু-গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। তারপর ঈমানের আলো দ্বারা অন্তরকে পবিত্র করতে হয়।
পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
الطهور نصف الايمان وفي رواية الطهور شطر الايمان (بيهقي ومسلم)
“পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।” ¬মিশকাত: ২/২৭৬, বাইহাকী, মুসলিম, মিশকাত: ২/২৬২
আল­াহ তা‘আলা পবিত্রতাকে ভালবাসেন
আল­াহ তা‘আলা নিজেই পবিত্র। তাই তিনি পবিত্রতাকে ভালবাসেন। আল­াহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ ﴿البقرة: ٢٢٢﴾
“নিশ্চয় আল­াহ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।’’ -সূরা বাকারা ঃ ২২২
কুবাবাসীদের প্রসংশায় আল­াহ তা‘আলা বলেন,
فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ ﴿التوبة: ١٠٨﴾
“সেখানে (কুবায়) রয়েছে এমন সব লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল­াহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। ”-সূরা তাওবা ঃ ১০৮
সালাতের চাবি পবিত্রতা
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلَاة الطّهُورগ্ধ (رَوَاهُ أَحْمد)
“জান্নাতের চাবি হলো সালাত, আর সালাতের মূলে রয়েছে পবিত্রতা।” -আহমদ; মিশকাত ঃ ২৯৪
আল­াহর আদেশ
وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا ﴿المائدة: ٦﴾
“যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে পবিত্রতা অর্জন করে নাও (পবিত্রতার মাধ্যম অযু, গোসল ও তায়াম্মুম)।’’ -সূরা মায়েদা ঃ ৬
স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন
জীবন যাপনের জন্য পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা একান্ত প্রয়োজন। শুধু মুসলমান হিসেবেই পবিত্রতা অর্জন অপরিহার্য নয় বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপনের জন্য পবিত্র থাকা একান্ত প্রয়োজন।
পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা। সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনের জন্য পরিস্কার কাপড় পরিধান করা বাঞ্চনীয়। এ প্রসংগে কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ ﴿الأعراف: ٣١﴾
“হে আদম সন্তানগন! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করবে।’’ -সূরা আরাফ ঃ ৩১
অন্য আয়াতে আরো এরশাদ হয়েছে,
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ﴿المدثر: ٤﴾
“(হে নবী !) আপনার পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন।’’ -সূরা মুদ্দাসসির ঃ ১-৪
সচ্চরিত্রবান আদর্শ সন্তানেরা পোশাক পরিচ্ছদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, ছেলেরা কখনও লাল রঙের, রেশমী কাপড়ের শার্ট বা পাঞ্জাবী পরিধান করবে না। এটি পুরুষদের জন্য হারাম। আদর্শ পরিবারের সন্তানেরা কখনও হাফ প্যান্ট (হারাম), থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, নয়/ছয় পকেটওয়ালা প্যান্ট, জিন্সের প্যান্ট পরিধান না করাই উত্তম। কারণ পোশাক পরিচ্ছদেও মানুষের সুন্দর মনের এবং সচ্চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে।
তেমনি মেয়েরা এমন কোন পোশাক পরিধান করবে না, যা ছেলেদের মত দেখায়। অনেক সময় ছেলে মেয়েদের পোশাক এবং মেয়ে ছেলেদের পোশাক পরিধান করতে দেখা যায়। যা উভয়ের ক্ষেত্রে আদর্শিকতার বিপরীত। এ ব্যাপারে সচ্চরিত্রবান মানুষ মাত্রই হবেন সচেতন ও যত্নশীল।
সংগৃহীত :

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




পর্তুগাল বাংলানিউজ

প্রধান উপদেষ্টা: কাজল আহমেদ

পরিচালক: মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম

প্রকাশক: মোঃ এনামুল হক

যোগাযোগ করুন

E-mail : [email protected]

Portugalbanglanews.com 2019
Developed by RKR BD