‘ছাত্র রাজনীতি’ কথাটাই আমার কাছে গোলমেলে। সাঈদ তারেক

‘ছাত্র রাজনীতি’ কথাটাই আমার কাছে গোলমেলে। সাঈদ তারেক

সাঈদ তারেক: বোঝা গেল ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অর্গল ভেঙ্গে কেউই ছাত্রদেরকে মুক্ত করে দিতে রাজী নয়। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তাদেরকে লাগবে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদেরকে লাগবে। সেই ’৮০এর দশক থেকেই এই চল। এটা আর বদলালো না। কথা উঠেছিল ছাত্র রাজনীতি বন্ধের। দেখলাম কেউ গা করলো না। কেউ কেউ বললেন এটা করলে নাকি দেশে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না! ভাল কথা। তা গত ত্রিশ বছরে কি নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে, কয়টা ছেলে জাতীয় রাজনীতিতে ঠাঁই করে নিতে পেরেছে তা তো দেখতেই পাচ্ছি! বরঞ্চ দেখা গেল তৈরী হয়েছে কতগুলো খুনী মাস্তান চাঁদাবাজ গুন্ডা বদমাশ। এই রাজনীতির ফসলগুলোই আজ সরকারি বেসরকারি চাকুরি পদ পদবী দখল করে সরকার চালাচ্ছে প্রশাসন চালাচ্ছে। এরাই বালিশ কিনছে পর্দা কিনছে কোটী টাকায় চেয়ার কিনছে। ইয়াবা বানাচ্ছে ক্যাসিনো চালাচ্ছে টাকার পাহাড় গড়ছে। সব সরকারের আমলেই এরা ড্যাম কেয়ার, দুর্দমনীয়।

‘ছাত্র রাজনীতি’ কথাটাই আমার কাছে গোলমেলে। রাজনীতি হচ্ছে রাজার নীতি, কথাটা প্রচলিত অর্থে বলছি। তাই যদি হয়, সরকার কিভাবে চলবে কারা চালাবে- ছাত্রদের এতে কি ভুমিকা! তারা সরকার চালাবে! ডিসাইড করবে কে ক্ষমতায় থাকবে কে থাকবে না! আমি আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে যতটুকু বুঝি ছাত্ররা করবে লেখাপড়া। এদেরকে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তী করা হয় জ্ঞানার্জনের জন্য শিক্ষিত হওয়ার জন্য সভ্য হওয়ার জন্য। শিক্ষিত এবং সভ্য হয়ে বেরিয়ে এসে যদি রাজনীতিতে যোগ দিতো তাহলে রাজনীতি হতো পরিশীলিত। আমি তো জানি সভ্য দেশগুলোয় ছাত্ররা ক্যাম্পাসে পড়ালেখাই করে, কোন দলকে ক্ষমতায় পাঠাতে বা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে লাঠিয়াল বাহিনীর ভুমিকা পালন করে না! তবে হ্যাঁ ছাত্রাবস্থায় তারা যে কোন রাজনৈতিক আদর্শ গ্রহন বা ধারন করতে পারবে না তেমন কোন কথা নাই। সেটা কোন দলের লেজুড়বৃত্তি না করেও করা যায়।


ছোটবেলায় দেখেছি- যতদুর মনে পড়ে কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়গুলোয় ছাত্র সংগঠন ছিল। তারা মুলত: ভর্তী ফি টিউশন ফি কমানো, হল হোস্টেলের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো বা ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সমস্যার সমাধানে দেন দরবার আন্দোলন করতো। সৎ দক্ষ এবং বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব কিন্তু তখনই বেরিয়ে এসেছে। এরাই দীর্ঘকাল রাজনীতি প্রশাসন চালিয়েছে, অত্যন্ত সুনাম এবং দক্ষতার সাথে। বলা হয় ছাত্র আন্দোলন না হলে স্বাধীনতাসহ জাতির বড় বড় অর্জনগুলো সম্ভব হতো না। অবশ্যই। কিন্তু আমি যতদুর জানি ছাত্র সংগঠনগুলো ছিল তখন স্বাধীন, কোন দলের লেজুড় বা অঙ্গ সংগঠন নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারি ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের ছাত্ররা কোন দলের অঙ্গ সংগঠন ছিল আমার জানা নাই।


স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গ সংগঠনে পরিনত করায়, তাদেরকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করায় কালেক্রমে এই রাজনীতি মর্যাদা হারিয়েছে। হালে জাতির কাছে এটি একটি বিভীষিকার নাম। দলগুলোর খপ্পর থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বের করে আনার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। এ অবস্থায় অভিভাবকদেরকেই উদ্যোগী হতে হবে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া যার যার সন্তান নিকটজনদেরকে সব সময় নজরদারিতে রাখুন। খোঁজখবর নিন। ওদেরকে বোঝান যেন কখনও কোন বাজে সংসর্গে জড়িয়ে না যায়। লাঠিয়াল বাহিনীগুলো থেকে দুরে থাকে। ছেলে কাড়িকাড়ি টাকা এনে বাপ মা’র হাতে তুলে দিলে বা দামী গাড়ীতে উঠিয়ে বেড়াতে নিয়ে গেলে, ফ্লাটের চাবি হাতে তুলে দিলে- খুশী না হয়ে তিরষ্কার করুন ভর্ৎসনা করুন। আমরা চাই না ছাত্র রাজনীতির নামে আর কোন মায়ের বুক খালি হোক, অপার সম্ভাবনাময় তরুন যুবকগুলো দানবে পরিনত হোক।

pbnews/anamulhaqe

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




পর্তুগাল বাংলানিউজ

প্রধান উপদেষ্টা: কাজল আহমেদ

পরিচালক: মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম

প্রকাশক: মোঃ এনামুল হক

যোগাযোগ করুন

E-mail : [email protected]

Portugalbanglanews.com 2019
Developed by RKR BD